গ্রাহকদের পকেটেই বাড়তি চাপ! এসবিআই এটিএম ফি থেকে আয় করছে হাজার কোটি টাকা

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) শুধুমাত্র এটিএম নগদ উত্তোলন ফি থেকেই হাজার কোটি টাকা আয় করছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে এসবিআই এটিএম নগদ উত্তোলন থেকে ২,০৪৩ কোটি টাকা আয় করেছে, যেখানে অন্যান্য সরকারি ব্যাঙ্কগুলো এই খাতে মোট ৩,৭৩৮.৭৮ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অথচ গ্রাহকদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিএম হলো সহজলভ্য নগদ লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম, যেখানে অতিরিক্ত ফি আরোপ করায় ক্ষোভ বাড়ছে।বর্তমানে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক প্রতি মাসে নিজের ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে পাঁচবার এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে তিনবার বিনামূল্যে টাকা তুলতে পারেন। এই সীমা অতিক্রম করলে প্রতি লেনদেনের জন্য ২১ টাকা পর্যন্ত চার্জ করা হয়। এসবিআই-এর মতো বড় ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে, যার রয়েছে ৬৪,৯৯৩টি এটিএম, এই চার্জ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব তৈরি হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকরা বলছেন, এটা তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন অনেক সময় এটিএমে পর্যাপ্ত নগদ থাকে না বা লেনদেন ব্যর্থ হয়।অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করেছেন, নগদ উত্তোলনের সীমিত বিকল্পের কারণে তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত চার্জ গুনছেন। শহরাঞ্চলে যেখানে ডিজিটাল লেনদেন সহজলভ্য, সেখানে হয়তো সমস্যা কম, কিন্তু মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে এখনো নগদ লেনদেনের চাহিদা বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। এসবিআই-এর এই আয়ের পরিসংখ্যান সামনে আসার পর অনেক গ্রাহক সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটিএম ফি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং নগদহীন অর্থনীতির দিকে আগ্রহ বাড়লেও, এটিএম চার্জ কমানো না হলে গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। এসবিআই-এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের উচিত গ্রাহকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অতিরিক্ত চার্জের বোঝা কমানো। এখন দেখার বিষয়, এসবিআই ও অন্যান্য সরকারি ব্যাঙ্কগুলি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, নাকি গ্রাহকদের ওপর বাড়তি ব্যয় চাপিয়েই তাদের মুনাফার পরিমাণ আরও বাড়াবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *