আগরতলা: দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোকে কেন্দ্র করে পরিবেশদূষণের মাত্রা যাচাইয়ে তৎপর ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা মেনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জল, শব্দ ও বায়ুর গুণমান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।প্রতিমা নিরঞ্জনের ফলে জলদূষণের মাত্রা কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, তা জানতে নিরঞ্জনস্থল থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করছে পর্ষদের বিশেষ দল। পর্ষদের আধিকারিক ডক্টর রাজীব পাল জানান, প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে ও পরে সংগৃহীত জলের নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরদিন নিরঞ্জনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী সাত থেকে আট দিন পরও এই পর্যবেক্ষণ চলবে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে পাঠানো হবে।জলদূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, গণেশপুজো থেকে দুর্গাপুজো পর্যন্ত দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে নীরব, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়েছে। আগামী লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলিতেও শব্দদূষণের পাশাপাশি বায়ুর গুণমান পরীক্ষা করা হবে।পর্ষদের আধিকারিক জানান, কর্মীর সংখ্যা সীমিত হলেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদয়পুরের জোনাল অফিস-সহ বিভিন্ন এলাকায় সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ-সহ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।এই কর্মসূচিতে আগরতলা মনিটরিং দলের কো-অর্ডিনেটর গৌতম ঘোষ, ডক্টর রাজীব পাল, সিনিয়র অফিসার রতন দেবনাথ, প্রজেক্ট অফিসার প্রসেনজিৎ দাসমোহ এবং বিজ্ঞানী সুশান্ত দাস-সহ পর্ষদের আধিকারিক ও কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন।উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দূষণের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমা নিরঞ্জনের পর জল পরীক্ষা, দীপাবলিতে দূষণে নজরদারি
