Headlines

পূর্ব লক্ষ্মীপুরে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ, চাল-চিনি না পেয়ে বিক্ষোভে গ্রাহকরা

তেলিয়ামুড়া: রেশনের চাল ও চিনি বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল তেলিয়ামুড়া মহকুমা খাদ্য দপ্তরের অধীন পূর্ব লক্ষ্মীপুর ভিলেজ কাউন্সিলের চামপ্লাই ৫৬ নম্বর রেশন দোকানে। রবিবার সকালে দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ রেশন গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে ওই রেশন দোকানের ডিলার কৃষাণ দেববর্মা। তবে অভিযোগ, গত প্রায় তিন মাস ধরে হৃদয় মিয়া ও রাসেল মিয়া দোকানটি পরিচালনা করছেন। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দোকান চালানোর অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।গ্রাহকদের অভিযোগ, এপিএল কার্ডধারীরা প্রতি মাসে তাঁদের প্রাপ্য চাল ঠিকমতো পাচ্ছেন না। পাশাপাশি, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি রেশন কার্ডে বিনামূল্যে ১ কেজি চিনি, ২ কেজি ময়দা ও ৫০০ গ্রাম সুজি দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের শুধু ময়দা ও সুজি দেওয়া হচ্ছে। চিনি না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।বিক্ষোভ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের সামনে রাসেল মিয়া দাবি করেন, ডিলার কৃষাণ দেববর্মা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য চালের বস্তা নিয়ে গিয়েছেন। তবে কেন চাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।চিনি নিয়ে তাঁর বক্তব্যেও অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রাহকরা। প্রথমে রাসেল মিয়া দোকানে চিনি মজুত নেই বলে জানান। কিন্তু প্রায় ১০–১৫ মিনিট পর তিনি চিনি আসছে বলে দাবি করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, দোকানে চিনির প্রকৃত মজুত কতটা এবং গ্রাহকদের কেন তা দেওয়া হচ্ছিল না।ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট খাদ্য দপ্তরের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি রেশন সামগ্রী বণ্টনে কোনও ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।তবে রেশন দোকান পরিচালনা, চাল সরিয়ে নেওয়া এবং চিনি বণ্টন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। প্রশাসনিক তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *