উদয়পুর, ত্রিপুরা: ত্রিপুরার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পর্যটনকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ‘ত্রিপুরাসুন্দরী ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোমতী জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয় এবং গোমতী জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, সহকারী সভাধিপতি সুজন সেন, উদয়পুর পৌর পরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাষ আচার্য্য, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের জয়েন্ট ডিরেক্টর মনোজ কান্তি সাহা এবং মাতাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন শিল্পী দাস-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির শুধু ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থান নয়, রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বহিরাজ্য থেকেও বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটক এই মন্দিরে আসেন। সেই ঐতিহ্যকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা এবং উদয়পুরকে ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।উৎসবের মধ্য দিয়ে রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবধারাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় পর্যটনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে পর্যটকদের কাছে ত্রিপুরাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক অভিষেক দেবরায় বলেন, মহালয়ার প্রাক্মুহূর্তে মায়ের পবিত্র ধামে সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন এক অনন্য অনুভূতি। মাতা ত্রিপুরাসুন্দরীর পবিত্র মন্দির প্রাঙ্গণে এমন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।পাশাপাশি, বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। আগামী দিনেও রাজ্যের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন ক্ষেত্রের বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলেও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উঠে আসে।সব মিলিয়ে, ‘ত্রিপুরাসুন্দরী ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিচয়কে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি উদয়পুরের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করার একটি উদ্যোগ।
মাতাবাড়িতে ‘ত্রিপুরাসুন্দরী ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
