Headlines

মনু নদীর বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত কৈলাশহর, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

কৈলাশহর, ১৩ জুলাই: ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন মনু নদীর ভাঙনরোধে বাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দুই ঠিকাদার গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। লাঠিয়াপুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাজের দায়িত্ব ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিয়ে শুরু হওয়া এই বিরোধে উত্তর কৈলাশহর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।গত ১২ জুলাই এক পক্ষের ঠিকাদাররা টিলাবাজার এলাকায় পথ অবরোধ করে অভিযোগ করেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী ঠিকাদার আব্দুল মান্নান ভাঙনরোধে স্যান্ড-সিমেন্ট ব্লক সরবরাহের উদ্যোগ নেন। তাঁদের দাবি, ১১ জুলাই প্রায় ১৮টি ট্রাকে করে ব্লক নিয়ে যাওয়া হলেও সেগুলি দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় এবং পরে দপ্তরের নির্দেশে নামাতে না দিয়েই ফেরত পাঠানো হয়।অভিযোগকারী পক্ষের আরও দাবি, বর্তমানে যে সংস্থা বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে তাদের কাছে পর্যাপ্ত স্যান্ড-সিমেন্ট ব্লক নেই। শুধুমাত্র মাটি ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে কাজ করা হচ্ছে, যা বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোত সামলাতে সক্ষম হবে না বলে তাঁদের আশঙ্কা।অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেন ঠিকাদার শফাত মিয়া এবং তাঁর সমর্থক মতাছির আলী। শফাত মিয়ার দাবি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের নির্দেশনা মেনেই নির্মাণকাজ চলছে এবং তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত নির্মাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।তিনি আরও অভিযোগ করেন, দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই অন্য পক্ষ জোরপূর্বক নির্মাণসামগ্রী ফেলার চেষ্টা করেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেই সামগ্রী ফেরত পাঠায়। তাঁর মতে, প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত করতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।এদিকে, আইনজীবী সন্দীপ দেবরায়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগও খারিজ করেছেন মতাছির আলী। তাঁর দাবি, বন্যা পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতেই তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন এবং সেই উদ্যোগের ফলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হয়।দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি, নির্মাণসামগ্রীবাহী ট্রাক আটকে দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক কাজে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে নির্মাণকাজ স্বাভাবিক না হলে বর্ষাকালে মনু নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাঁদের দাবি, প্রশাসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে বিরোধের সমাধান নিশ্চিত করুক, যাতে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজার হাজার মানুষ সম্ভাব্য বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *