Headlines

তিন মাস ধরে পাথর সংকট! বন্ধের মুখে শতাধিক ক্রেশার, কর্মহীন হাজারো শ্রমিক—হস্তক্ষেপের দাবি

ত্রিপুরায় প্রায় তিন মাস ধরে পাথর পরিবহনে অচলাবস্থার অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমায় একের পর এক ক্রেশার বন্ধ হওয়ার মুখে। পাথরের জোগান ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন শ্রমিক, গাড়িচালক, গাড়ির মালিক ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ।চুরাইবাড়ি এলাকায় পাথর ব্যবসার উপর নির্ভরশীল বহু পরিবারের জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেকেই ঋণ নিয়ে বা কিস্তিতে গাড়ি কিনে মেঘালয় থেকে বোল্ডার এনে ব্যবসা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিবহন বন্ধ থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি কিস্তি দিতে না পারায় কয়েকজনের গাড়ি ফাইন্যান্স সংস্থার হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে রবিবার ত্রিপুরা বোল্ডার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিলন দেবনাথের বাসভবনে ব্যবসায়ী, ক্রেশার মালিক, গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়।বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও মেঘালয় থেকে পাথর নিয়ে আসা গাড়িগুলিকে বরাক উপত্যকার প্রবেশদ্বার দিগরখাল গেটে আটকে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এই জটিলতার দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।অন্যদিকে অসম থেকে রিভার স্টোন পরিবহনের ক্ষেত্রেও সমস্যার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বর্ষাকালে নদীর পাথরে জল থাকায় ওজন কিছুটা বেড়ে যায়। সেই অতিরিক্ত ওজনকে কেন্দ্র করে চুরাইবাড়ি এমভিআই গেটে একটি গাড়িকে প্রায় ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। অথচ প্রতি গাড়িতে ব্যবসায়ীদের লাভ মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা হওয়ায় এমন জরিমানায় ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব বলে দাবি তাঁদের।ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য, পাথরের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নির্মাণ ও সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসাতেও বড় ধাক্কা আসতে পারে। তাই ত্রিপুরা ও অসম সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসে দিগরখাল গেটের সমস্যা এবং পাথর পরিবহনের অন্যান্য জটিলতা নিরসনের দাবি জানানো হয়েছে।সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মহলের প্রতিনিধিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *