গাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর মালিকের অজান্তে তা অন্যের কাছে বন্ধক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আমতলী থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও দীর্ঘদিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাড়ির মালিক কর্ণজিৎ ভৌমিক।অভিযোগ অনুযায়ী, আমতলী থানার চারিপাড়া শিবনগর এলাকার বাসিন্দা কর্ণজিৎ ভৌমিক তাঁর TR-01-CF-0520 নম্বরের মারুতি গাড়িটি ফুলতলী এলাকার আশিষ মিয়ার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আশিষ মিয়া তাঁর এক ভাগিনার মাধ্যমে গাড়িটি মণিপুরের ইম্ফলের এক যুবকের কাছে এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে বন্ধক দেন বলে অভিযোগ। তবে গাড়ির মালিককে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি কর্ণজিৎ ভৌমিকের।বিষয়টি জানতে পেরে আশিষ মিয়ার কাছে জবাব চান গাড়ির মালিক। কিন্তু সন্তোষজনক কোনও উত্তর পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। এরপর প্রায় চার মাস আগে প্রথমে আমতলী থানায় জিডি করেন কর্ণজিৎ। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়িটি উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়া হলেও অভিযোগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।কর্ণজিৎ ভৌমিকের অভিযোগ, একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেও তিনি গাড়ি উদ্ধারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাননি। এমনকি বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, গাড়িটি উদ্ধারে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।রবিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভের কথা জানান কর্ণজিৎ ভৌমিক। তাঁর দাবি, গাড়িটি না ফেরায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সমস্যায় পড়েছেন। গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় নিয়মিত চাপের মুখে পড়ছেন বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আত্মহানির কথাও উল্লেখ করেন।এদিকে, তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মণিপুরের ইম্ফল থেকে গাড়িটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে আমতলী থানার পুলিশ বা ওসি ইন্সপেক্টর রানা চ্যাটার্জির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
গাড়ি বন্ধক রেখে প্রতারণার অভিযোগ, আমতলী থানার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ মালিকের
