ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ (GMP)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলনে ADC কর্মীদের বেতন, পেনশন ও অবসরকালীন পাওনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মার দাবি, দুর্গাপুজোর আগে ADC-র প্রায় চার হাজার কর্মচারী তাঁদের বেতন-ভাতার পুরো টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।GMP-র অভিযোগ, ২০২২-২৩ সাল থেকে অবসর নেওয়া বহু কর্মচারী এখনও পেনশন, গ্র্যাচুইটি-সহ বিভিন্ন প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, গত মাসের হিসাব পর্যন্ত প্রায় ৪৯৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এক থেকে দেড় বছর ধরে পেনশন পাচ্ছেন না। আরও প্রায় ৩৫০ জন পেনশন পেলেও গ্র্যাচুইটি-সহ অন্যান্য অবসরকালীন পাওনা পাননি।বকেয়া প্রাপ্য আদায়ের দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একাংশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানান GMP নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ADC প্রশাসনের উপর বকেয়া পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে। সংগঠনের হিসাবে ADC-র মোট আর্থিক দায় প্রায় ১৯৩ কোটি টাকা।এদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করে GMP নেতৃত্বের দাবি, ADC স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হলেও এর সঙ্গে রাজ্য সরকারের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের প্রশাসনিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই কর্মীদের বেতন-পেনশন সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।পাশাপাশি ADC কর্মীদের দুর্গাপুজোর বোনাস ও অগ্রিম প্রদানের দাবিও জানানো হয়। একইসঙ্গে চলতি অর্থবর্ষের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাজেট কীভাবে তৈরি ও অনুমোদিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাধাচরণ দেববর্মা। কাউন্সিলের অধিবেশনে বাজেট নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়।উৎসবের মরশুমে সাধারণ দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান ও মজুরির সুযোগ তৈরির দাবিও তুলেছে GMP। দুর্গাপুজো, হোজাগিরি, সংক্রান্তি কিংবা বড়দিনের মতো উৎসবের আগে মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে বিশেষ কর্মসংস্থান কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পুজোর আগে ADC কর্মীদের বেতন-পেনশন নিয়ে শঙ্কা, আর্থিক স্বচ্ছতার দাবি GMP-র
