Headlines

বুদ্ধিসত্ত্ব হত্যা মামলায় বড় মোড়, হাইকোর্টে বেকসুর খালাস সুমিত বণিক ও সুমিত চৌধুরীর

আগরতলা শহরের বহুল আলোচিত বুদ্ধিসত্ত্ব দাস হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে এই মামলায় অভিযুক্ত সুমিত বণিক ও সুমিত চৌধুরীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টের এই রায় ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড তৎকালীন সময়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। নিহত বুদ্ধিসত্ত্ব দাস ধর্মনগর ইউকো ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ ও ৪ আগস্ট মধ্যরাতে আগরতলার জ্যাকসন গেট ও উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ সংলগ্ন এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তির মদ্যপ অবস্থায় অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়।অভিযোগ ছিল, ধারালো অস্ত্র ও ভাঙা বোতল দিয়ে বুদ্ধিসত্ত্ব দাসের উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তর করা হলেও কয়েকদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।ঘটনার তদন্তে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এদের মধ্যে ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর সুকান্ত বিশ্বাস, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমিত চৌধুরী, সুমিত বণিক ও ওমর শরীফ। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের জুন মাসে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ও দায়রা আদালত চার অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। মামলায় মোট ৫৬ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল।পরবর্তীতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ত্রিপুরা হাইকোর্ট সুমিত বণিক ও সুমিত চৌধুরীকে বেকসুর খালাস দেয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী সুব্রত সরকার রায়ের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *