Headlines

উদয়পুরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় পদক্ষেপ, ৩০০ কোটি টাকার তিন প্রকল্পের সূচনা

উদয়পুর: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও উন্নত করার লক্ষ্যে গোমতী জেলা হাসপাতাল ও উদয়পুরের ত্রিপুরা সুন্দরী মহকুমা হাসপাতালে তিনটি বৃহৎ প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানা গিয়েছে।বুধবার সকালে উদয়পুর ত্রিপুরা সুন্দরী মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, উদয়পুর মহকুমা হাসপাতালের একটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের সূচনা উপলক্ষে ভূমিপূজাও করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে গোমতী জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় গোমতী জেলা হাসপাতাল ও ত্রিপুরা সুন্দরী মহকুমা হাসপাতালের অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে উদয়পুরের মহকুমা হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় হাসপাতালটি চালু রাখার দাবিতে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর হাসপাতালটি চালু রাখা সম্ভব হয় বলে দাবি করেন তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় যে হাসপাতালকে টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছিল, আজ সেই হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বহু মানুষ এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন। আগামী দিনেও উন্নয়নের এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।এদিন গোমতী জেলা হাসপাতালের নির্মাণ ও পরিকাঠামো নিয়েও পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি হাসপাতালটি উদ্বোধন করার ফলে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এর জেরে হাসপাতালটিকে ঘিরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উদয়পুরের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বলেন। তাঁর মতে, আগামী দিনে উদয়পুর রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে আরও বিকশিত হবে। রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে উদয়পুরের উঠে আসার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।উদয়পুরের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিচিতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ৫১ পীঠ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান তিনি। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে উদয়পুরের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও পর্যটনগত গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই উন্নয়নের কাজ দেখতে পান না। কটাক্ষের সুরে তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় বিরোধীদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে তাঁরা রাজ্যে বাস্তবায়িত উন্নয়নমূলক কাজগুলি সরেজমিনে দেখতে পারেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেব রায়, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারপারসন শীতল চন্দ্র মজুমদার, জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিক-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।প্রায় ৩০০ কোটি টাকার এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গোমতী জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *