দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাইছড়া এলাকায় ১৪ নম্বরী গ্রামীণ রাস্তার নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তেজনা ছড়ায়। রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিলোনিয়া মহকুমা শাসক দেবজ্যোতি রায়।জানা গেছে, মাইছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গাছবাড়িয়া হয়ে উত্তর কলাবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণের প্রায় ৮ কোটি টাকার বরাত পায় মাই ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থা। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত ১০ শতাংশ কাজও সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।গ্রামবাসীদের দাবি, পুরনো ইটের সোলিং তুলে ফেলার পর অত্যন্ত ধীরগতিতে ও অবৈজ্ঞানিকভাবে কাজ করায় বর্ষার সময় পুরো রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালীন পানীয় জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিও বিক্ষোভে জোরালোভাবে তোলা হয়।আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহকুমা শাসক দেবজ্যোতি রায় এলাকাবাসী, পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন। তবে ঘটনাস্থলে পূর্ত দপ্তরের কোনো পদস্থ আধিকারিককে দেখা যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামবাসীরা। পরে দপ্তরের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত হলেও তিনি সদ্য দায়িত্ব নেওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ঠিকাদারি সংস্থার প্রতিনিধিদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে মহকুমা শাসক জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানো না হলে এবং কাজ সঠিকভাবে সম্পন্নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রশাসন গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৮ কোটির রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ! বিক্ষোভে উত্তাল বিলোনিয়া, ঠিকাদারকে কড়া হুঁশিয়ারি মহকুমা শাসকের
