কুমারঘাট, ১০ জুলাই: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। মনু ও দেও নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় একাধিক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের খোলা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গতদের জন্য মোট ১৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব শিবিরে ২৮৭টি পরিবারের মোট ১,৫০৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হালাইমুড়া, ইন্ডাস্ট্রি পাড়া, ইন্দিরা কলোনি, তারাপুর, তরণীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার জল বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। অনেক রাস্তাও জলের তলায় চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। অনেকেই রাতের অন্ধকারে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ত্রাণ শিবিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।এদিকে মহকুমা প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি, নদী সংলগ্ন ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কুমারঘাটে বন্যার থাবা, ১৭ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিলেন ১,৫০৯ দুর্গত
