আগরতলা, ৫ আগস্ট: ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বুধবার আগরতলার স্টেট গেস্ট হাউজ ‘সোনারতরী’-তে ‘উচ্চ শিক্ষা সংলাপ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ। উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিশোর বর্মণ বলেন, এই উদ্যোগ ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা নীতি গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, “এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি সভা নয়, এটি মুক্ত আলোচনার একটি মঞ্চ। সরকার বলবে আর শিক্ষার্থীরা শুধু শুনবে— সেই ধারা বদলে এখন শিক্ষার্থীরা বলবে, সরকার মনোযোগ দিয়ে শুনবে।”মন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষার বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক প্রস্তাব ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু ডিগ্রি প্রদানের কেন্দ্র নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ ও রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি।সংলাপে শিক্ষার্থীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল— কলেজের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষা, আদর্শ কলেজ গঠন, আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষার রূপরেখা এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা।মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে ত্রিপুরার কলেজগুলোকে শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতীয় চেতনা বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং ‘এডুকেশন হাব’ বাস্তবায়নেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি জানান, ভবিষ্যতে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের সংলাপের আয়োজন করা হবে, যাতে সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা যায়।
‘সরকার বলবে না, শুনবে’— শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চশিক্ষা সংলাপের সূচনা
