তেলিয়ামুড়া: প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগে ফের ক্রোক করা হলো তেলিয়ামুড়ার গৌরাঙ্গ টিলা এলাকার একটি বাড়ি। মঙ্গলবার প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে দেওয়ার পর বাড়িটি পুনরায় ক্রোক করে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা চোলা ম্যান্ডেলাম ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড।জানা গেছে, ২০২৪ সালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন গৌরাঙ্গ টিলা এলাকার বাসিন্দা সুকমল রায়। ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে তাঁর বাবা সুধীর রায়ের নাম ছিল বলে জানা গেছে।সংস্থার দাবি, নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় ২০২৫ সালে গ্যারান্টার সুধীর রায়ের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঋণ পরিশোধ অথবা বাড়ি বিক্রি করে ঋণ নিষ্পত্তির জন্য সে সময় পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও দাবি সংস্থার।অভিযোগ, পরবর্তীতে প্রশাসনের লাগানো তালা ভেঙে সুকমল রায় ফের ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। একাধিকবার ঋণ পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে দাবি ঋণদাতা সংস্থার।এরপর মঙ্গলবার ফের বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে দেওয়ার পর বাড়িটি পুনরায় ক্রোক করা হয়।তবে এই ঘটনায় সামনে এসেছে পরিবারের মানবিক সংকটও। বাড়িটি ক্রোক হওয়ার পর সুকমল রায়ের অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবা কার্যত আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়েছেন বলে জানা গেছে। বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে এখন কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার।ঋণের আইনি দায়বদ্ধতা এবং বাড়ি ক্রোকের প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির ভবিষ্যৎ আশ্রয়ের বিষয়টিও এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চোলা ম্যান্ডেলাম ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেডের এরিয়া লিগ্যাল ম্যানেজার কৌশিক ভাগবতী, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক কার্যালয়ের ডিসিএম জিনিয়াস দেববর্মা-সহ তেলিয়ামুড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
৩০ লক্ষ টাকার ঋণ, ক্রোক বাড়ি! অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবা নিয়ে পথে সুকমল
