বর্ষার বিদায়লগ্নে প্রকৃতির রূপ বদলাতেই যেন বেজে ওঠে আগমনী সুর। নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা, দিগন্তজোড়া কাশফুলের দোলা আর ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে ছড়িয়ে থাকা শিউলির সুবাস—সব মিলিয়ে শরতের চেনা আবহে বাঙালির মনে জেগে ওঠে একটাই অনুভূতি, “মা আসছেন।”শরৎ এলেই প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়ে তোলে দুর্গাপূজার মঞ্চ। মাঠের আলপথের দু’ধারে দুলতে থাকা কাশফুল, নির্মল নীল আকাশ আর শিউলির মিষ্টি গন্ধ মনে করিয়ে দেয় শারদীয়ার সেই চিরচেনা আনন্দ। পঞ্জিকার পাতায় পূজার দিন যতই এগিয়ে আসে, প্রকৃতির এই পরিবর্তনেও ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে উমার ঘরে ফেরার বার্তা।বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে এই উৎসব আজ বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্গাপূজার আগমন শুধু ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকায় নয়, প্রকৃতির রূপ বদলের মধ্য দিয়েও অনুভব করেন মানুষ।তেলিয়ামুড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ রুমা ভট্টাচার্য্য বলেন, “কাশফুল শুধুমাত্র একটি ফুল নয়, এটি আনন্দের দূত, একটি বার্তাবাহক। কাশফুল মায়ের আগমনের বার্তা নিয়ে আসে।”তিনি আরও বলেন, “যখনই আমরা কাশফুল দেখতে পাই, তখনই আমাদের মন আনন্দে মেতে ওঠে। মনে হয়, আসছে আমাদের ঘরের মেয়ে উমা। কাশফুল যেন তার শুভ্র পাখা মেলে বলে—মাগো তুমি এসো।”কাশফুলের শুভ্রতা, শিউলির সুবাস আর শরতের নীল আকাশে তাই মিশে থাকে শৈশবের স্মৃতি, পুজোর ভোরের আবেগ এবং ঢাকের অপেক্ষা। প্রকৃতির সাদা-শুভ্র সাজ যেন দেবী দুর্গার আগমনের আগে পৃথিবীর নিজস্ব সাজসজ্জা।শরৎ তাই শুধু একটি ঋতু নয়—এ এক অনুভূতি, এক নস্টালজিয়া, আর উমার ঘরে ফেরার প্রতীক্ষা। দিগন্তজোড়া কাশফুল আজ যেন প্রকৃতির ভাষায় একটাই বার্তা দিচ্ছে—শুভ্রতার ডানায় ভর করে এসো মা, আলোয় ভরে দাও বাংলার আকাশ-বাতাস।
কাশফুলের দোলায়, শিউলির সুবাসে—মা আসছেন!
