Headlines

কৈলাসহর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের দেখা নেই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রোগীরা!

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সরকারের নানা দাবি থাকলেও বাস্তব চিত্র নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। এবার অভিযোগ উঠেছে ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা পরিষেবা ঘিরে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর আত্মীয়-পরিজনরা।ঘটনাটি বুধবার, ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যার। অভিযোগ অনুযায়ী, কৈলাসহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক গুরুতর অসুস্থ রোগী চিকিৎসার জন্য রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসককে না পেয়ে বিপাকে পড়েন তাঁরা। সন্ধ্যা ৬টা, সাড়ে ৬টা, ৭টা, সাড়ে ৭টা এমনকি রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেও হাসপাতালে আসা রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ।রোগীর আত্মীয়-পরিজনরা কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে চিকিৎসক সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁদের জানানো হয়, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দেখতে রাউন্ডে রয়েছেন। কিন্তু জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের প্রশ্ন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা কোথায় যাবেন?পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে রোগীর আত্মীয়-পরিজনরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার সত্যতা প্রত্যক্ষ করেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন রোগী জরুরি বিভাগের বাইরে চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্য হাসপাতালে, এমনকি ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চলে যেতে বাধ্য হন।অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৯টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের নির্ধারিত চিকিৎসক সেখানে এসে রোগী দেখেননি। অবশেষে রাত ৯টা ৫ মিনিট নাগাদ রাতের রাউন্ডের চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়ে জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেন।হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগউল্লেখ্য, রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল একসময় অবিভক্ত উত্তর জেলার পাশাপাশি বর্তমান ঊনকোটি, ধলাই ও উত্তর ত্রিপুরা জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীকালে জেলা বিভাজনের পর হাসপাতালটি মহকুমা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিতি পায়। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল কৈলাসহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু মানুষ।তবে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ইনচার্জ তথা মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের (SDMO) সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।এমনকি হাসপাতালের অধীনে কর্মরত ৩৫ জন আশা কর্মী গত দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ অক্টোবর দুপুর ১২টা নাগাদ বেতন সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে আশা কর্মীরা SDMO-র কাছে ডেপুটেশন দিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেদিনও তাঁরা SDMO-কে হাসপাতালে পাননি। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের বেতন না পাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে উঠছে প্রশ্নএকটি মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যদি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের অধিকার এবং হাসপাতালের দায়িত্বের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।তবে এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী ব্যাখ্যা দেয় এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *