পানিসাগর | গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকার উন্নয়নে কেন্দ্র সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (VBGRAM)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগরে। উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন ও ত্রিপুরা সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জনসম্মেলনে নতুন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠানে গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, এতদিন এমজিএনরেগার অধীনে দৈনিক মজুরি ছিল ২৫৬ টাকা, যা নতুন প্রকল্পে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্যারান্টিযুক্ত কর্মদিবসের সংখ্যা ১০০ দিন থেকে বৃদ্ধি করে ১২৫ দিন করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই নতুন মিশন চালু করা হয়েছে। ‘প্রগতি পোর্টাল’-এর মাধ্যমে গ্রামের চাহিদার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়ন করা হবে।নতুন মিশনের আওতায় চারটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে— জল সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তর উন্নয়ন, জীবিকা ও আয় বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প, গ্রামীণ যোগাযোগ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি।অনুষ্ঠানে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় এমজিএনরেগা প্রকল্পে শ্রেষ্ঠ পারফর্মিং গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটিগুলিকেও সম্মানিত করা হয়। বিভিন্ন ব্লকের মোট আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটিকে তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রান, অতিরিক্ত জেলাশাসক এল. ডালং, এসডিএম সুশান্ত দেববর্মা, বিডিও মানস ভট্টাচার্য, জেলার বিভিন্ন ব্লকের বিডিও, পানিসাগরের বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস, জেলা সভাধিপতি অপর্ণা দেবনাথ, বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, ব্লক অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন মিশনের মাধ্যমে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং আত্মনির্ভর গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বড় ঘোষণা! মজুরি ৩০০ টাকা, কাজের নিশ্চয়তা ১২৫ দিন
