ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে ঘিরে কৈলাসহরে কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভা থেকে গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করলেন কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার কৈলাসহরের চিনিবাগান বাজারে জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বিরজিত সিনহা বলেন, তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মনের উত্থাপিত গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবিকে অবিলম্বে সমর্থন করা উচিত মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহার। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের কয়েকটি রাজনৈতিক মহল উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে থাকে। একইসঙ্গে দেশভাগের আগে ত্রিপুরার রাজাদের অধীনে থাকা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।বিরজিত সিনহার বক্তব্য, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবি মেনে নিলে বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে। পাশাপাশি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার জন্য তিনি বিজেপি ও সিপিআইএম—দুই দলকেই নিশানা করেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, এআইসিসি সদস্য সুশান্ত চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। সভায় গৌরনগর ব্লকের তিনটি এডিসি ভিলেজের ২৫ জন কংগ্রেস প্রার্থী ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।গৌরনগর ব্লকের হীরাছড়া, দেওরাছড়া ও ঊনকোটি—এই তিনটি এডিসি ভিলেজের মোট ২৫টি আসনে বিজেপি, কংগ্রেস, তিপ্রা মথা ও সিপিআইএমের মধ্যে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।ভিলেজ কাউন্সিল ভোটের ঠিক আগে বিরজিত সিনহার মতো কংগ্রেস বিধায়কের মুখে প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মনের গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবির প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক তিপ্রা মথার দিকে রাজনৈতিকভাবে এগোচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আপাতত জল্পনাই রয়েছে।
গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতে বিরজিতের সায়! মথার দিকে কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?
