তেলিয়ামুড়ায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় দুই জনজাতি যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ময়নাতদন্ত না করার দাবিতে মর্গের সামনে জড়ো হন মৃতদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবিকে ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে তৈরি হয় টানটান পরিস্থিতি।জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় তেলিয়ামুড়া থানাধীন মহকুমা শাসকের কার্যালয় সংলগ্ন আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের জারুইলংবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সঞ্জয় দেববর্মা ও বিশু কুমার দেববর্মা নামে দুই যুবকের। দুর্ঘটনার পর থেকেই কীভাবে এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।এর মধ্যেই তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া পুরনো সাক্ষাৎকারকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। উপস্থিত কয়েকজনের ধারণা ছিল, বক্তব্যটি শনিবারের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্যের প্রেক্ষিত স্পষ্ট হলে জানা যায়, ওই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান দুর্ঘটনা নিয়ে নয়, এর আগে একই এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই এলাকায় ট্রাফিক নাকা পয়েন্ট বসানোর বিষয়টিও সেই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ময়নাতদন্ত নিয়ে আপত্তি বজায় রাখেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আগে সামনে আনতে হবে। কীভাবে বাইকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানান তাঁরা।রবিবার সকাল থেকেই পুলিশের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতেও আপত্তি জানান পরিবারের সদস্যরা। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে আলোচনা ও বোঝানোর চেষ্টা।পরে বেলা প্রায় ২টা নাগাদ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক এবং এমডিসি জিতেন দেববর্মা হাসপাতালে পৌঁছে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তে সম্মতি জানান পরিবারের সদস্যরা।এরপর মর্গে রাখা সঞ্জয় দেববর্মা ও বিশু কুমার দেববর্মার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়। তবে ময়নাতদন্ত শুরু হলেও দুর্ঘটনার নেপথ্যের প্রশ্নগুলি এখনও পুরোপুরি মেটেনি। দুই যুবকের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, দুর্ঘটনার সময় আসলে কী ঘটেছিল এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি বা অন্য কোনও বিষয় ছিল কি না—তা জানতে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মৃতদের পরিবার।
দুই যুবকের মৃত্যু ঘিরে তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে উত্তেজনা, তদন্তের আশ্বাসে ময়নাতদন্তে সম্মতি
