বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি মাটির কাজের প্রতি অনেকের আগ্রহ ক্রমশ কমছে, সেখানে নিজের সৃজনশীলতা ও শিল্পীসত্তার মাধ্যমে ব্যতিক্রমী নজির গড়ে তুলেছে বাইখোড়ার জগন্নাথ পাড়ার বাসিন্দা শুভ্রজিৎ দাস। অল্প বয়সেই নিজের হাতে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে সকলের নজর কেড়েছে শিবশঙ্কর দাসের ছেলে শুভ্রজিৎ।শুভ্রজিৎ বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী নির্মাণের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এর আগে নিজের হাতে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা তৈরি করেছিল সে। এবার পরিবারের সদস্য, শিল্পশিক্ষক ও স্থানীয় এক মৃৎশিল্পীর সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণায় তৈরি করেছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।শুভ্রজিতের কথায়, প্রতিমা তৈরি করা তার কাছে শুধু একটি কাজ নয়, বরং নেশা ও ভালোবাসার বিষয়। ভবিষ্যতে পড়াশোনা করে সে যত বড় অফিসার, চিকিৎসক কিংবা ইঞ্জিনিয়ারই হোক না কেন, প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে চায়। এই কাজের জন্য কেউ কেউ তার পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও অনেকে তাকে উৎসাহিত করেছেন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য, তার আর্টের শিক্ষক এবং স্থানীয় এক মৃৎশিল্পী তাকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও মাটি ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন ওই মৃৎশিল্পী।শুভ্রজিৎ জানিয়েছে, তার নিজের হাতে তৈরি দুর্গাপ্রতিমাকে সামনে রেখেই জগন্নাথ পাড়ায় দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হবে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিমাটি দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমছে।অল্প বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রতি শুভ্রজিতের এই আগ্রহ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার এই উদ্যোগ শুধু তার প্রতিভার পরিচয় নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে মাটির শিল্প ও নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনুপ্রেরণাও।
পড়াশোনার পাশাপাশি মৃৎশিল্পে নজির, বাইখোড়ায় দুর্গাপ্রতিমা গড়ল অষ্টম শ্রেণির শুভ্রজিৎ
