আগরতলা: ফের পূজা অগ্রিম থেকে বঞ্চিত হলেন রাজ্যের ক্যাজুয়াল কর্মীরা—এমন অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চ। সংগঠনের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর অর্থ সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে ক্যাজুয়াল কর্মীদের পূজা অগ্রিম দেওয়া এবং অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার অর্থ দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় সেই দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ।সংগঠনের বক্তব্য, ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্যাজুয়াল কর্মীরা পূজা অগ্রিম পেতেন। এরপর থেকে প্রতি বছর সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত বিষয়টির সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, অতীতে ক্যাজুয়াল কর্মীদের অগ্রিম দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিআরডব্লিউ কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশিকাই অনুসরণ করা হতো। উভয় শ্রেণির কর্মীই অর্থ দপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও পূজা অগ্রিমের ক্ষেত্রে ডিআরডব্লিউ কর্মীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ক্যাজুয়াল কর্মীদের বাদ রাখা হয়েছে।এদিকে, গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তাদের কাছে দেওয়া ডেপুটেশনেও সকল স্তরের অনিয়মিত কর্মচারীদের পূজা অগ্রিম দেওয়া এবং অনুদান বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছিল বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশিকায় অনুদানের পরিমাণ মাত্র ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প বেতনে কাজ করা অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়টিও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ২০১৮ সালের আগে অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করার একটি স্কিম চালু ছিল। কিন্তু ৩১ জুলাই ২০১৮ সেই নিয়ম বন্ধ করে দেওয়ার পর নতুন নীতিমালা তৈরির কথা বলা হলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।সংগঠনের আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শিক্ষা দপ্তরের আটজন ডিআরডব্লিউ কর্মীকে নিয়মিত করা হলেও বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত হাজার হাজার ডিআরডব্লিউ, ক্যাজুয়াল ও পিএল কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন দেবনাথের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার অবসানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দাবি পূরণ না হলে অনিয়মিত কর্মীদের আন্দোলন আরও তীব্র করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই বলেও তিনি জানান।
পূজা অগ্রিমে ফের বঞ্চিত ক্যাজুয়াল কর্মীরা, ক্ষোভ অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চের
