সোনামুড়া, ১ জুন: চাকরির নিয়মিতকরণ, সমকাজে সম বেতন, গ্র্যাচুইটি, নিয়মিত পেনশনসহ সাত দফা দাবিতে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা সোমবার ডেপুটেশন প্রদান করেন। রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার উদ্দেশ্যে এই ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয় সোনামুড়া আইসিডিএস প্রকল্পের সিডিপিওর মাধ্যমে।সোমবার সোনামুড়া আইসিডিএস প্রকল্পের সিডিপিও প্রবাল কান্তি বর্মন-এর নিকট সাত দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা।দাবিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের অবসরের পর উপযুক্ত গ্র্যাচুইটি ও পেনশন প্রদানের পক্ষে রায় দিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ত্রিপুরা হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের গ্র্যাচুইটি দ্রুত প্রদানের নির্দেশ দিলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের দাবি, চাকরির নিয়মিতকরণ সাপেক্ষে সমকাজে সম বেতন, অবসরের সঙ্গে গ্র্যাচুইটি ও নিয়মিত পেনশন, মোবাইল বিল ও এসএনপি (Supplementary Nutrition Programme) বাবদ ভাতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।ডেপুটেশন প্রদানকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।অপরদিকে সিডিপিও প্রবাল কান্তি বর্মন কর্মী ও সহায়িকাদের দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।উল্লেখ্য, সোনামুড়া মহকুমার সোনামুড়া নগর, বক্সনগর, মেলাঘর ও কাঠালিয়া এলাকায় মোট ৬৪৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১,২৯৮ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা। ফলে তাঁদের দাবি ও সমস্যা একটি বৃহৎ কর্মীসমাজের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
‘সমকাজে সম বেতন ও পেনশন চাই’— ৭ দফা দাবিতে সোনামুড়ায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকাদের ডেপুটেশন
