স্মার্ট মিটার বাতিল, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এবং রিচার্জ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগে সোমবার দিনভর উত্তাল হয়ে উঠল কুমারঘাট মহকুমার ফটিকরায়ের কাঞ্চনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তর চত্বর। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে কাঞ্চনবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যাটারিচালিত গাড়ি ও ই-রিকশা চালকরাও অংশ নেন।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকেই দ্রুত টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মিটার রেন্ট, ফিক্সড চার্জ-সহ বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জের কারণে সাধারণ গ্রাহক এবং দিনমজুর শ্রেণির গাড়িচালকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।সারাদিন বিক্ষোভ চললেও সন্তোষজনক আশ্বাস না মেলায় সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বিদ্যুৎ দপ্তরের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। এমনকি দপ্তরে তালা ঝোলানোরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডেভিড চাকমা, বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিজিএম আশীষ বণিক, এজিএম নিতাই দেববর্মা, ডিসিএম, সিনিয়র ম্যানেজার, ফটিকরায় থানার ওসি-সহ প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা।পরে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা। ডিজিএম আশীষ বণিক, এজিএম নিতাই দেববর্মা এবং কাঞ্চনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তরের সিনিয়র ম্যানেজার লিখিতভাবে জানান, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, স্মার্ট মিটারে দ্রুত টাকা কেটে নেওয়া এবং রিচার্জ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়গুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যস্থতায় এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের লিখিত আশ্বাসের পর রাত প্রায় ৯টা নাগাদ পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।তবে দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
⚡ স্মার্ট মিটার-বিলের প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভ, রাতে লিখিত আশ্বাসে কাঞ্চনবাড়িতে আন্দোলন প্রত্যাহার
