খোয়াই: খোয়াইয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার খোয়াইয়ের সুভাষ পার্ক বইমেলা মাঠে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাসহ একটি বহুতল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের ভূমিপূজা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। পাশাপাশি, ভার্চুয়ালি খোয়াই জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মিত আরও ২০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ২১টি প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে লালছড়া মহাশ্মশানঘাটে বৈদ্যুতিক চুল্লি, আয়রনমুক্ত পানীয় জলের জন্য ডিপ টিউবওয়েল, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রীনিবাস এবং আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির-সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিধায়িকা কল্যাণী রায়, বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই জেলার জেলাশাসক রজত পান্থ, জেলা পুলিশ সুপার ডি. জগদীশ্বর রেড্ডি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা সুমিত রায় চৌধুরী, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথ শর্মা এবং খোয়াই জেলা পরিষদের সভানেত্রী অপর্ণা সিংহ রায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়াই সরকারের লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রীঅনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রসার, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে উন্নত ত্রিপুরা গড়ে তোলাই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন হতে হবে সর্বজনীন। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে কর্মসংস্কৃতির সূচনা হয়েছে। গত অর্থবর্ষে রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমা ও জেলায় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের শিলান্যাস করা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বলেও জানান।খোয়াই জেলায় ১,০৩৩ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজখোয়াই জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত জেলায় মোট ৭১টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় ১,০৩৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৯টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং বাকি ৫২টি প্রকল্পের কাজ চলছে।যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তুলাশিখর ব্লকের গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ১০৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। খোয়াই থেকে তেলিয়ামুড়া হয়ে সাব্রুমের হরিণ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগরতলা থেকে খোয়াই হয়ে কৈলাসহর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনাখোয়াইয়ে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যা মোকাবিলায় সুবিধা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলি জেলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।সব মিলিয়ে, খোয়াই জেলার উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের শিলান্যাসকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।
খোয়াইয়ে ১৫ কোটি টাকার শপিং কমপ্লেক্সের শিলান্যাস, ২১ প্রকল্পে ব্যয় ৩৯ কোটি
