বিলোনিয়া, ৩০ অক্টোবর: একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিলোনিয়া সফর করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। প্রায় দুই বছর পর মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। মুহুরী নদীর বাঁধ সংস্কার থেকে শুরু করে জুডো হল, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে একগুচ্ছ প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি।এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, মাইলাফ্রু মগ, স্বপ্না মজুমদার-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, সচিব মিলিন্দ রামটেকে ও কিরণ গিত্যে, জেলা সভাধিপতি দীপক দত্ত, জেলা শাসক ও সমাহর্তা মোহাম্মদ সাজাদ পি এবং পুর পিতা নিখিল চন্দ্র গোপ-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।সফরের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী যান বি সি নগর ব্লকের অধীন উত্তর বিলোনিয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধ এলাকায়। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর বাঁধ সংস্কারের কাজ কতদূর এগিয়েছে, কী কী কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কী কী কাজ বাকি রয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। জেলা শাসক মোহাম্মদ সাজাদ পি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রকল্পগুলির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।পরিদর্শন শেষে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছান বিলোনিয়ার শচীন দেববর্মন অডিটোরিয়ামে। সেখান থেকে ভার্চুয়ালি একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে বন্যার হাত থেকে বিলোনিয়া শহরকে রক্ষা করতে মুহুরী নদীর প্রায় ৩.০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শহরবাসীর জন্য আধুনিক পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠের জুডো হল সংস্কার করে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অস্মিতা দে-র নামে উৎসর্গ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এছাড়াও বিলোনিয়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় ভাস্কর্য ও ফোয়ারা নির্মাণ, দ্বিতল মেডিসিন স্টোর, সারাসীমায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইনকিউবেশন সেন্টার, বিলোনিয়া থানার নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে ৫০ আসনবিশিষ্ট উপজাতি ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, বিকেআই স্কুলের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সৌন্দর্যবর্ধন, ভেন্ডিং জোন, পার্কিং ও বসার ব্যবস্থা এবং বিকেআই সিন্থেটিক খেলার মাঠে খোলা মঞ্চ ও ড্রেসিং রুম নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে। পাশাপাশি সিএমইউ-র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আগামী দিনে প্রতিটি জেলাকে কীভাবে আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণকে পরিষেবা দেওয়াই সরকারের মূল কাজ এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে বিলোনিয়ার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর এবং একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনাকে ঘিরে শুক্রবার বিলোনিয়াজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বন্যার স্মৃতি মাথায় রেখে মুহুরী নদীর বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষ।
শতকোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, দুই বছর পর বিলোনিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী
