কর্মব্যস্ত সপ্তাহের মাঝেই টানা ৭২ ঘণ্টার রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। দীর্ঘ যানজট, অনিশ্চয়তা এবং ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।অবরোধের জেরে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় বহু যাত্রী স্টেশনেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শতাধিক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে পড়ে। কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবীরা, পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী বহনকারী গাড়িগুলিকেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।সংকট নিরসনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অবরোধকারীদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা থেকে কোনো ইতিবাচক সমাধান বেরিয়ে আসেনি বলে জানা গেছে। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।এদিকে, অবরোধের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।যাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, নিজেদের দাবি আদায়ের অধিকার থাকলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে অবরোধকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।রাজ্যের এই অচলাবস্থা কবে কাটবে এবং আলোচনার মাধ্যমে কবে স্বাভাবিক হবে রেল ও সড়ক যোগাযোগ—সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
৭২ ঘণ্টার রেল-জাতীয় সড়ক অবরোধে জনজীবন বিপর্যস্ত! বৈঠকের পরও সমাধানহীন সংকট
