Headlines

“রাজনৈতিক হিংসায় নিহত সহিদ মিয়ার পরিবারের আর্তি — বাঁচার আশায় সরকারি চাকরির দাবি”

নিজস্ব প্রতিনিধি:২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর চড়িলাম বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছিলেন ৭৮ বছর বয়সী সহিদ মিয়া। ঘটনার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তাঁর পরিবার সরকারি কোনো সহায়তা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটানো পরিবারটি এবার রাজ্য সরকারের কাছে একটি সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছে।শনিবার সকালে চড়িলাম উত্তর মুড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে নিহত সহিদ মিয়ার স্ত্রী পিরোজা খাতুন, তাঁর তিন দিনমজুর ছেলে এবং পুত্রবধূরা একত্রিত হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি প্রদান করা হোক, যাতে এই অসহায় পরিবারটি ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা পেতে পারে।পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তারা বিপিএল তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক সহায়তা পাননি। সংসারের হাল ধরতে তিন ছেলে দিনমজুরের কাজ করলেও তা দিয়ে পরিবার চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।সহিদ মিয়ার স্ত্রী পিরোজা খাতুন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, স্বামীকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। কিন্তু বাস্তবের কঠিন লড়াই তাঁদের বাধ্য করেছে সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানাতে। পরিবারের একজন সদস্যের সরকারি চাকরি হলে অন্তত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছুটা নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এদিকে, পরিবারের এই আবেদন ঘিরে এলাকায় সহানুভূতির সুর শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।তবে এ বিষয়ে রাজ্য সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয়, নিহত সহিদ মিয়ার পরিবারের এই আবেদন কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *