Headlines

‘শিক্ষা বাঁচাও, অধিকার ফিরিয়ে দাও’—ত্রিপুরায় আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা এসএফআইয়ের

ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থা, ছাত্র অধিকার এবং বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিল স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)। এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব, রাজ্য সভাপতি প্রীতম শীলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সাংবাদিক সম্মেলনে সৃজন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ত্রিপুরায় ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে এবিভিপির নামে যুব মোর্চার ‘গুন্ডামি’ চলছে এবং এসএফআই কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদের উপর আক্রমণ মানে তাদের শিক্ষার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার এবং বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।”তিনি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেন, এক সময় মানিক সরকারের আমলে স্কুল শিক্ষার প্রসার ঘটলেও বর্তমানে সেই ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের ৩৬০টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ‘স্কুল বাঁচাও’ কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি।সৃজন ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সমালোচনা করে নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন দেশজুড়ে চলবে।ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব জানান, আগামী দুই মাস ধরে মহকুমা ও জেলা সদরগুলিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরোধিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, বিজেপি সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণকে উৎসাহিত করছে, যার ফলে গরিব অথচ মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং এবিভিপির প্রভাব বাড়ানো হচ্ছে।এসএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, শিক্ষা ও ছাত্রস্বার্থ রক্ষায় তিন দফা দাবিকে সামনে রেখে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *