পানিসাগর, উত্তর ত্রিপুরা: উন্নয়নের নানা দাবি ও প্রচারের মাঝেও উত্তর ত্রিপুরার পদ্মবিল এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন এখনও চরম অবহেলার শিকার। পানিসাগর বিধানসভার অন্তর্গত উত্তর পদ্মবিল ও দক্ষিণ পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৪৫০টি পরিবারের হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা রাস্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।জলাবাজার থেকে বড়বাজার যাওয়ার একমাত্র সংযোগকারী রাস্তার বেহাল দশা এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর যোগাযোগের প্রধান ভরসা পুরনো স্টিল বা রেলওয়ে ব্রিজটির অবস্থা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্থানীয়দের মতে, ব্রিজটি যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিদিন প্রায় ২০০ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবককেই প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানদের হাত ধরে ব্রিজ পার করিয়ে দিতে হয়।স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো গর্ভবতী মহিলা বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে অ্যাম্বুল্যান্স সরাসরি পৌঁছাতে পারে না। ফলে রোগীদের কাঁধে বা টুকরিতে করে বিপজ্জনক ব্রিজ পার করিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়। এতে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, বহুবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কার এবং নতুন সেতু নির্মাণের আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি উন্নয়ন বাস্তবেই সর্বত্র পৌঁছে থাকে, তাহলে উত্তর ও দক্ষিণ পদ্মবিলের শত শত মানুষ এখনও কেন নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত? তাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের পরিবর্তে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
উন্নয়নের দাবির আড়ালে মৃত্যুফাঁদ! ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ২০০ পড়ুয়া
