আগরতলা: চরম আর্থিক অনটন, প্রতিদিনের সংগ্রাম আর সীমাহীন প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে কাঞ্চনমালা পাল কলোনীর মেধাবী ছাত্র রাহুল রুদ্রপাল। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৭৭ নম্বর পেয়ে গোটা রাজ্যের মধ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করে সে প্রমাণ করে দিয়েছে, স্বপ্ন আর ইচ্ছাশক্তির কাছে দারিদ্র্য কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।রাহুলের বাবা দিলীপ রুদ্রপাল পেশায় একজন সাধারণ অটোচালক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেই সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। মা অনিতা রুদ্রপাল একজন গৃহিণী। সীমিত আয়ের মধ্যেই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে পরিবারকে।স্থানীয়দের মতে, ছোটবেলা থেকেই রাহুলের মধ্যে ছিল অসাধারণ মেধার পরিচয়। পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলই আজ রাজ্যস্তরের এই সাফল্য। রাহুলের এই কৃতিত্বে শুধু তার পরিবার নয়, আনন্দে আত্মহারা গোটা কাঞ্চনমালা এলাকাও।তবে সাফল্যের আনন্দের মাঝেও রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল জানিয়েছে, তার উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি পড়াশোনার ব্যয় মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।রাহুলের স্বপ্ন, ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। সেই লক্ষ্যেই সে আগরতলার ডি.এল.এড কলেজে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু আর্থিক অনটন তার সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে রাহুল। তার আশা, সরকারের সহায়তা পেলে সে নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে এবং একদিন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হবে।রাহুলের এই অসাধারণ সাফল্যে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার, সংগ্রামের মধ্য থেকে উঠে আসা এই মেধাবী ছাত্রের স্বপ্নপূরণে সমাজ ও প্রশাসন কতটা এগিয়ে আসে।
অটোচালকের ছেলের দুর্দান্ত সাফল্য! উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের অষ্টম রাহুলের স্বপ্ন—একদিন শিক্ষক হওয়া
