কমলাসাগর, ২৫ জুন: রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামল বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই (DYFI)। গত শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হলেও অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং শাসক দল বিজেপি।ডিওয়াইএফআই-এর অভিযোগ, দেবীপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কেনানিয়া বাজার থেকে আগরতলা-কমলাসাগর মূল সড়ক সংলগ্ন ভায়া নন্দকুমার পাড়া হয়ে দেবীপুর প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের অফিস পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেহাল। সংগঠনের দাবি, রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হওয়া সরকারি অর্থের সিংহভাগ আত্মসাৎ করা হয়েছে। নামমাত্র কয়েকটি ইট বসিয়ে এবং অল্প কিছু ড্রেন নির্মাণের কাজ দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চায়েত সচিব, পঞ্চায়েত প্রধান এবং স্থানীয় সদস্যরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।পঞ্চায়েত সচিব জানান, উক্ত রাস্তার উন্নয়নের জন্য পঞ্চায়েতের কাছে কোনো অর্থ বরাদ্দ আসেনি। শুধুমাত্র ৩৮ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি সীমিত বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল।পঞ্চায়েত প্রধান হরিদত্তও একই দাবি করে বলেন, তিন কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ৮০০ মিটার অংশ দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে। রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য কোনো সরকারি তহবিল পাওয়া যায়নি। যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তা শুধুমাত্র ড্রেন নির্মাণের কাজের জন্য।এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কমলাসাগর বিধানসভার বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ সাহা বামপন্থী সংগঠনের আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই আন্দোলন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বামপন্থীরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”বিশ্বজিৎ সাহার দাবি, রাস্তার কাজের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বরাদ্দ আসেনি। তবে এলাকাবাসীর সুবিধার কথা মাথায় রেখে ৩৮ মিটার ড্রেন নির্মাণের অনুমোদনের বাইরে গিয়েও অতিরিক্ত কিছু কাজ করা হয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। একদিকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, অন্যদিকে সেই অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে দেবীপুরের রাস্তা ইস্যু এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাস্তার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে DYFI-এর বিক্ষোভ, পাল্টা ‘মিথ্যা প্রচার’ বলে আক্রমণ পঞ্চায়েত ও বিজেপির
