মাতাবাড়ি, ১৩ জুন: মাতাবাড়ির গর্জি এলাকায় বিজেপি ও তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে ঘিরে গর্জি বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায় দলের রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে গর্জি বাজার সংলগ্ন একটি হোটেলে খাওয়া-দাওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বচসা সংঘর্ষের রূপ নেয়।সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। যদিও আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।পরবর্তী সময়ে তিপ্রা মথার মাতাবাড়ি ব্লক সভাপতি সুমন মিয়াকে গর্জি ফাঁড়ির পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসে বলে অভিযোগ ওঠে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকরা গর্জি ফাঁড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন।বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, একতরফাভাবে তিপ্রা মথার নেতাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও ঘটনায় নিজেদের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেজন্য পুলিশ গর্জি ফাঁড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।গর্জির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাতাবাড়ি মহকুমার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া উদ্যোগের দিকে।
গর্জিতে বিজেপি-তিপ্রা মথার সংঘর্ষে উত্তেজনা, রাতভর বিক্ষোভে থমথমে এলাকা
