আগরতলা: প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আগরতলার দশমীঘাটে এক গাড়িচালককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি ক্লাবের সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গাড়িচালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত প্রায় ১০টা নাগাদ চারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক জলফুমিয়া প্রতিমা বিসর্জনের জন্য গাড়ি নিয়ে দশমীঘাটে যান। প্রতিমা নামানোর পর গাড়িটি পিছনে নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ক্লাব সম্পাদক মিঠুনের গায়ে গাড়িটি অনিচ্ছাকৃতভাবে লেগে যায় বলে অভিযোগ।এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। তাদের দাবি, গাড়িচালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে ক্লাব চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন যুবক তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তার কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।পরিবারের আরও দাবি, মোবাইলের লক খুলে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ফের মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তার একটি হাত ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। পরে ফোনের লক খুলে দেওয়ার পর মোবাইলটি নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।পরিবারের অভিযোগ, রাত প্রায় ২টা নাগাদ নদীর পাড় থেকে ওই গাড়িচালককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে তাকে আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে টিএমসি হাসপাতাল হয়ে আগরতলা জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।ঘটনার পর আজ পশ্চিম আগরতলা থানায় অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছে আহত গাড়িচালকের পরিবার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ন্যায়বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে।তবে পরিবারের আনা অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঠিক কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে—তা পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
দশমীঘাটে গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ, হাত ভাঙার দাবি পরিবারের
