বক্সনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্যের দাবি যৌথ বাহিনীর। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে বক্সনগর ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ডেলানিয়া সরকারি বন্ধ স্তরের জায়গার গভীর জঙ্গলে শুরু হয় তল্লাশি। দুর্গম এলাকায় মাটি খুঁড়ে ও সন্দেহজনক জায়গায় জেসিবি দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা।অভিযান চালিয়ে মোট ১২টি গাঁজাভর্তি ড্রাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ড্রামগুলি থেকে প্রায় ২১৪ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।এই যৌথ অভিযানে অংশ নেয় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB), সিপাহীজলা জেলা পুলিশ, কলমচৌড়া থানা, ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন BSF এবং বক্সনগর বন দপ্তর। ঘন জঙ্গলে মাদক লুকিয়ে রাখার সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ তল্লাশির পাশাপাশি জেসিবি ব্যবহার করে বিভিন্ন সন্দেহজনক স্থান খুঁড়ে দেখা হয়।তল্লাশির একপর্যায়ে একের পর এক গাঁজাভর্তি ড্রাম উদ্ধার হতে থাকে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ প্রায় ২১৪ কেজি বলে জানা গেলেও এর আনুমানিক বাজারমূল্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের দাবি, CRPF এবং ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন BSF-এর পক্ষ থেকে তাঁদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। কেন তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, এত বিপুল পরিমাণ গাঁজা দুর্গম জঙ্গলে কীভাবে পৌঁছল, কারা তা মজুত করেছিল এবং এর সঙ্গে কোনও বড় মাদকচক্রের যোগ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক মজুত ও পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজা জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।বক্সনগরের গভীর জঙ্গলে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে মাদকের প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বক্সনগরের গভীর জঙ্গলে জেসিবি দিয়ে তল্লাশি, ১২ ড্রামে ২১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার!
