আগরতলা, ১০ জুলাই: ত্রিপুরার প্রতিটি মানুষ যাতে নিজের রাজ্যেই আধুনিক, উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এবং অংশীদারিত্ব রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করবে।শুক্রবার আগরতলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও উদ্যানপালনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার একাধিক বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ রাজ্যের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন।তিনি জানান, ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং চিকিৎসকদের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে রাজ্যের মানুষকে বাইরে যেতে না হয়, সেজন্য আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা চালু হয়েছে। ইতোমধ্যেই সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হার্ট ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।তিনি চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সমস্যা হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনানুগ পথেই সমাধান খোঁজা উচিত। পাশাপাশি চিকিৎসকদের আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে টেলিমেডিসিন পরিষেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বজনীন টিকাকরণের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং বর্তমানে রাজ্যের ৮১.৭ শতাংশ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি সহায়তা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় জন্মগত বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে নতুন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজের নতুন ভবন এবং ডি-অ্যাডিকশন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলিকেও ধাপে ধাপে আরও আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য পূরণে স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য, ত্রিপুরার মানুষ যেন নিজের রাজ্যেই উন্নত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
রাজ্যেই মিলবে আধুনিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে জোর: মুখ্যমন্ত্রী
