রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ইস্যুকে সামনে রেখে মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং একাধিক বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।সাংবাদিক সম্মেলনে তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন সম্প্রতি দেওয়া মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ত্রিপুরার আদিবাসীদের জন্য ভালো কাজ করছেন, সে বিষয়ে জিতেন চৌধুরী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখেই মানুষ সরকারের কাজের মূল্যায়ন করবে। উন্নয়নের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে কিনা, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।এছাড়াও, রাজ্যের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আমলার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনমানসে আস্থার সংকট তৈরি হবে। একইসঙ্গে এক বিতর্কিত আমলার বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইএএস পদে পদোন্নতির বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।রাজ্যের প্রায় তিন হাজার কর্মচারীর নিয়মিত বেতন না পাওয়া এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চাকরিরত নন-টেট শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করে সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের পক্ষে মত দেন তিনি।মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এমন একটি সংবেদনশীল ঘটনায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা উদ্বেগজনক।এদিকে, শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী মনীষা দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়েও সরব হন জিতেন চৌধুরী। পরিবারের দাবি অনুযায়ী এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি কেউ কেউ এই ঘটনাকে কলকাতার আর জি কর কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বলেও উল্লেখ করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।অন্যদিকে, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠনগুলোর ডাকা ৭২ ঘণ্টার বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো এজেন্ডা নেই। তা সত্ত্বেও সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে জনজীবন স্বাভাবিক রাখা সরকারের দায়িত্ব।রাজ্যের চলমান নানা ইস্যুতে বিরোধী দলনেতার এই সাংবাদিক সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ ও সমালোচনার কী জবাব আসে, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।
“সরকার নীরব দর্শক!” একের পর এক ইস্যুতে সরব বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী
