Headlines

সরকারি জলের মেশিনে একার দখল! পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে কাঞ্চনমালা

বিশালগড়, ১৩ জুন: সরকারের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সেই প্রকল্পের বাস্তব চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য ধরা পড়েছে বিশালগড়ের কাঞ্চনমালা মুসলিম পাড়া এলাকায়। নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাড়ার সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি পানীয় জলের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যা হানুফা খাতুনের বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি উদ্যোগে পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়িতে একটি জলের মেশিন বসানো হয়েছিল, যাতে এলাকার সাধারণ মানুষও সহজে বিশুদ্ধ পানীয় জল সংগ্রহ করতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে পাড়ার বাসিন্দারা সেই সুবিধা ভোগ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী গত পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে হঠাৎ করেই পাড়ার মানুষের জন্য জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন পঞ্চায়েত সদস্যা। তবে নিজের পরিবারের জন্য সরকারি জলের সুবিধা বহাল রেখেছেন তিনি।এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, জলের মেশিন পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ বিলের খরচ ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে তারা পঞ্চায়েত সদস্যার কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং জল সরবরাহ চালু করার কোনও উদ্যোগও নেননি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।শনিবার সকালে ক্ষুব্ধ ও ভুক্তভোগী বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য, “সরকার ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অথচ আমরা টাকা দিতে চেয়েও জল পাচ্ছি না। এই তীব্র গরমে দূর-দূরান্ত থেকে উঁচু টিলা পেরিয়ে পানীয় জল বয়ে আনতে হচ্ছে।”ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনও জনপ্রতিনিধি সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করতে পারেন না। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কাঞ্চনমালা মুসলিম পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য পানীয় জলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *