Headlines

তারকাটা পেরিয়ে ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ! কাজের খোঁজে আসার দাবি দুই বাংলাদেশি যুবকের, বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

ত্রিপুরার কমলাসাগর সীমান্ত এলাকায় দুই বাংলাদেশি যুবকের অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাজের সন্ধানে ভারতে প্রবেশের দাবি করা ওই দুই যুবককে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর বিএসএফের হাতে তুলে দেন। পরে মধুপুর থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলাসাগর সীমান্তের দেবীপুর রাজারটিলা এলাকায় তারকাটা বেড়ার নিচ দিয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন দুই যুবক। তাদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে এলাকার কিছু যুবক আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেন, বাংলাদেশে কাজের অভাবে জীবিকার সন্ধানে ত্রিপুরায় এসেছেন এবং এপারে এসে রিকশা চালিয়ে উপার্জনের পরিকল্পনা ছিল তাদের।আটক দুই যুবকের পরিচয় হিসেবে জানা গেছে, একজনের নাম মোহাম্মদ আকাশ (২৪)। তার বাবার নাম আব্দুল রহিম আলী। বাড়ি বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার কাইমপুর এলাকায়। অপর যুবকের নাম বরাত আলী (১৮)। তার বাবার নাম মৃত জহিরুল ইসলাম। তার বাড়িও একই থানার কাইমপুর এলাকায়।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় কড়া নিরাপত্তার দাবি করা হলেও কীভাবে দুই যুবক অনায়াসে তারকাটা বেড়া পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নজরদারির বার্তা দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।যদিও আটক যুবকদের দাবি, তারা শুধুমাত্র কাজের উদ্দেশ্যেই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের হাতে আটক ব্যক্তিদের ওপর গণধোলাইয়ের ঘটনাও মানবিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন পুলিশের তদন্তেই সামনে আসবে, ওই দুই যুবকের উদ্দেশ্য শুধুই জীবিকার সন্ধান ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *