দক্ষিণ ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী লুধুয়া অর্গানিক চা বাগানকে রাজ্যের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্য নৌবিহারের সুবিধা চালুর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বাগানের জলাশয়ে প্যাডেল বোট ও কায়াক বোটের ট্রায়াল রান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ পি, রাখি ত্রিপুরা, প্রীতম দেবনাথ, রতন দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।লুধুয়া চা বাগানের প্রায় দুই একর আয়তনের জলাশয়ে তিনটি প্যাডেল বোট এবং দুটি কায়াক বোটের ট্রায়াল রান উদ্বোধন করেন জেলাশাসক। রুপাইছড়ি ব্লকের আর্থিক সহায়তায় চালু হওয়া এই উদ্যোগ পর্যটন বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রায় ১,২৫২.৮৫ একর বিস্তৃত লুধুয়া চা বাগান উচ্চমানের অর্গানিক সবুজ চা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।জেলাশাসক মোহাম্মদ সাজ্জাদ পি জানান, লুধুয়াকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে রোপওয়ে নির্মাণ ও বিস্তৃত সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।বিডিও প্রীতম দেবনাথ জানান, মহামুনি বৌদ্ধমন্দির, লুধুয়া চা বাগান এবং মৈত্রী সেতু-কে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পর্যটন হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে প্যাডেল বোট, কায়াকিং, ট্রেকিং, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও আধুনিক শৌচাগারের ব্যবস্থাও করা হবে।পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু পর্যটন শিল্পই নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। লুধুয়া চা বাগান ভবিষ্যতে দক্ষিণ ত্রিপুরার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
লুধুয়া চা বাগানে নৌবিহারের সূচনা, দক্ষিণ ত্রিপুরায় গড়ে উঠছে নতুন পর্যটন হাব
