Headlines

মনু নদীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫০ পরিবার! কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে সরব এলাকাবাসী

কৈলাসহর, ১৮ জুন:ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্ত কলোনি এলাকায় মনু নদীর ভাঙনকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নদীভাঙন রোধে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ খুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, নিম্নমানের কাজ এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে আসন্ন বর্ষায় প্রায় ১৫০টি পরিবার বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্য সরকারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর মনু নদীর ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণ ও স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকার বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নির্ধারিত নকশা ও সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ না করে নিম্নমানের ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্লক নির্মাণের কথা ছিল, সেখানে বাস্তবে অনেক কম সংখ্যক ব্লক তৈরি ও স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।তাদের আরও অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়মিত তদারকি করেননি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ঘটলেও তা অদৃশ্য থেকে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বারবার বিষয়টি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।বর্তমানে মনু নদীর ভাঙন বসতবাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সুকান্ত কলোনির বাসিন্দারা। এলাকার অধিকাংশ পরিবারই আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে।এলাকাবাসীরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টির প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র জানতে প্রশাসনিক তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *