গোমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন মেলাঘর পুরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতিমধ্যেই বহু পরিবারের বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে, আর অনেকের বাড়ি এখন ভাঙনের একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, যেকোনো মুহূর্তে বাড়িঘর নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বহু পরিবার নিজেদের ঘর নিজেরাই ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে বোল্ডার ফেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রায় ছয় মাস আগে ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙন রোধে বোল্ডার ফেলার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু দরপত্রকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কাজ এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে নদীভাঙন রোধের প্রকল্প কার্যত থমকে রয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, টেন্ডার সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে অবিলম্বে বোল্ডার ফেলার কাজ শুরু করা হোক। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক বিলম্বের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গোমতীর অব্যাহত আগ্রাসনে শতাধিক পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এখন তাদের একটাই দাবি—প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, যাতে আর কোনো পরিবার সর্বস্ব হারানোর শিকার না হয়।
গোমতীর ভাঙনে বিপর্যস্ত মেলাঘর! টেন্ডার জটে থমকে বোল্ডারের কাজ, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার
