নিজের সন্তানের কাছেই নিরাপত্তাহীন ষাটোর্ধ্ব এক বিধবা মা। দীর্ঘদিন ধরে ছেলে ও পুত্রবধূর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বৃদ্ধা।ঘটনাটি আমতলী থানার অন্তর্গত দক্ষিণ বাধারঘাট চারিপাড়া নব দিগন্ত ক্লাব সংলগ্ন এলাকার। নির্যাতিতা বৃদ্ধার নাম লক্ষ্মী রানী সরকার। জানা যায়, প্রায় ৮-১০ বছর আগে তাঁর স্বামী খোকন সরকার মারা যান। তাঁদের চার মেয়ে ও এক ছেলে। একমাত্র ছেলে সজল সরকারকে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছিলেন লক্ষ্মী রানী। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ছেলে সজল সরকার ও পুত্রবধূ মৌসুমী দাস সরকার তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করে আসছেন।অভিযোগ, মঙ্গলবার ফের বৃদ্ধাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং চুল ধরে টানাটানি করা হয়। এরপর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি স্বামীর তৈরি ভিটেবাড়িতে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।বর্তমানে প্রাণের ভয়ে মেয়েদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন লক্ষ্মী রানী সরকার। চোখের জলে সাংবাদিকদের সামনে নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বৃদ্ধভাতার টাকাও ছেলে ও পুত্রবধূ ভোগ করছেন, অথচ তাঁর কোনো খোঁজখবর রাখেন না।বুধবার দুপুরে বাধ্য হয়ে ছেলে সজল সরকার ও পুত্রবধূ মৌসুমী দাস সরকারের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বৃদ্ধা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।এখন প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা এই অসহায় বৃদ্ধা মা কি ন্যায়বিচার পাবেন? সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য মহিলা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাঁর পাশে দাঁড়ায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার মানুষ।
১০ বছর ধরে ছেলে-পুত্রবধূর নির্যাতন! শেষে ঘরছাড়া বৃদ্ধা মা, থানায় অভিযোগ
