Headlines

কোটি টাকার পার্ক, অথচ সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্ক! বটতলায় ‘স্মার্ট সিটি’র বাস্তব ছবি

একসময় ভাবনা ছিল—ব্যস্ত আগরতলা শহরের বুকে এমন একটি জায়গা থাকবে, যেখানে একটু সময় কাটাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। পরিবার নিয়ে আসবেন, শিশুরা খেলবে, বয়স্করা বসে গল্প করবেন। সেই লক্ষ্যেই কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতায় সাজানো হয়েছিল বটতলার পার্কটি।কিন্তু বর্তমানে সেই পার্কের চেহারা দেখে হতাশ সাধারণ মানুষ। সৌন্দর্যায়নের আড়ালে যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ। অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই পার্কের ভেতরে বসছে নেশার আসর। বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে মদের খালি বোতলসহ নানা সামগ্রী। ফলে পরিবার নিয়ে পার্কে আসতেও অনেকেই এখন অস্বস্তি বোধ করছেন।শুধু পার্কের ভিতরের ছবিই নয়, বাইরের পরিবেশও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বটতলার মাছ বাজারের পাশেই পার্কের দেওয়াল ঘেঁষে পড়ে রয়েছে মাছের বর্জ্য, অবশিষ্টাংশ, মাছের পেটি ও অন্যান্য আবর্জনা। গরমের দিনে এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। পথচারীদের নাক চেপে রাস্তা পার হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগও স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি এলাকায় থাকলেও তার আশপাশে যথাযথভাবে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা ও পার্কের দেওয়ালের পাশে আবর্জনা জমছে। মাছ বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।আর পার্কের ভিতরে নেশার আসর বসার অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আরও বড় উদ্বেগ। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করা একটি সরকারি পার্ক যদি সন্ধ্যার পরই অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা এই পরিকাঠামোর উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে—সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু পার্ক তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের কথা মাথায় রেখে পার্কটিকে নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছে।প্রশ্ন উঠছে পুর নিগম, পুলিশ এবং স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় পার্কের এমন অবস্থা কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নজরের বাইরে থাকছে?কোটি কোটি টাকার সৌন্দর্যায়ন যদি আবর্জনার দুর্গন্ধ আর নেশার আসরের অভিযোগে ঢাকা পড়ে যায়, তাহলে সেটি শুধু একটি পার্কের সমস্যা নয়—এটি শহর পরিচালনা ও নাগরিক পরিষেবারও প্রশ্ন।বটতলার মানুষ তাই চাইছেন, অভিযোগের পর অভিযোগ নয়—এবার হোক বাস্তব পদক্ষেপ। পরিষ্কার হোক পার্ক ও তার চারপাশ, বন্ধ হোক অবৈধ নেশার আসর, বাড়ুক নজরদারি। কারণ ‘স্মার্ট সিটি’র সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়; সেই শহরকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং মানুষের জন্য বাসযোগ্য করে তোলাই হওয়া উচিত আসল সাফল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *