Headlines

চাকমাঘাটে মাটি ধসে দুই যুবকের মৃত্যু, মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে সহায়তা

তেলিয়ামুড়া, ১৩ জুন: তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় মাটি ধসের ঘটনায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।দুপুরে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানে মৃতদের পরিবার ও আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান তাঁরা। পরে প্রশাসনের তরফে দুই মৃত যুবকের পরিবারের হাতে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় বাড়ির কাজের জন্য মাটি সংগ্রহ করতে যান কুঞ্জমুড়া এলাকার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সি জেমস জমাতিয়া, ৩০ বছর বয়সি আশা হরি জমাতিয়া এবং ৩০ বছর বয়সি অমূল্য ধন জমাতিয়া। একটি গাড়ি নিয়ে তাঁরা মাটি কাটার কাজ শুরু করেছিলেন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, কাজ চলাকালীন আচমকাই বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়ে তিনজনের ওপর। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন।দীর্ঘ চেষ্টার পর গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গাড়িচালক অমূল্য ধন জমাতিয়াকে। তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাঁকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।অন্যদিকে, মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জেমস জমাতিয়া ও আশা হরি জমাতিয়া। তাঁদের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে কুঞ্জমুড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল চত্বর।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর অবৈজ্ঞানিক ও নিরাপত্তাহীনভাবে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।চাকমাঘাটের এই দুর্ঘটনা শুধু দুটি তরতাজা প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং নিরাপত্তাবিধি মেনে কাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তাকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *