তেলিয়ামুড়া মহকুমার মহারানীপুর এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন টি.আর.এল.এম (TRLM)-এর সঙ্গে যুক্ত মাস্টার বুক কিপার ঝুমা চৌধুরী।অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চহারে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষ ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাসিক লাভের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়েছিল।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রতারিতদের একাংশ তেলিয়ামুড়া ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্য-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিডিও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে এবং জেলা শাসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।ঘটনার আরও গুরুতর দিক হলো, সরকারি নথিতে বিডিও-র স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের জাল নথি ব্যবহার করা হলেও তা প্রশাসনের নজরে আসেনি, যা প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।স্থানীয় মহলের একাংশের মতে, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ঝুমা চৌধুরী অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি এবং সরকারি নথি জাল করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য, ঘটনার জেরে গামাইবাড়ি ও ব্রহ্মছড়া এলাকাতেও অনুরূপ অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলে এই অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের।
“তেলিয়ামুড়ায় ২০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ! TRLM কর্মীকে ঘিরে চাঞ্চল্য”
