ধর্মনগর, নিজস্ব প্রতিনিধি:উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ধর্মনগর জেলা হাসপাতালকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। পানীয় জলের সংকট, পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থা, মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা এবং রোগী-পরিজনদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব—এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল ব্যবহারকারীরা।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলেও বিশুদ্ধ পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হাসপাতালের ছাদে থাকা জলাধারগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ যথাযথভাবে করা হচ্ছে না। ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।এছাড়াও হাসপাতালের ছাদে কোভিড-১৯ পর্বে ব্যবহৃত হাসপাতালের বেড, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, নবজাতকদের জন্ডিস চিকিৎসার ফটোথেরাপি ইউনিটসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবহারযোগ্যতা এবং সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।রোগীদের পরিজনদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানীয় জল এবং অন্যান্য প্রাথমিক পরিষেবার অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও একাধিকবার এসব সমস্যা প্রকাশ্যে এলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।তবে এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।এদিকে, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, পানীয় জল সংকট থেকে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অরক্ষিত!
