Headlines

বিরোধী সদস্যের ওয়ার্ডে রেগার কাজ বন্ধের অভিযোগ, উত্তাল ছনতৈল পঞ্চায়েত!

কৈলাসহর: ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’—এই স্লোগানের আড়ালে বিরোধী দলের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যের ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠল শাসকদল পরিচালিত ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। রেগার কাজ বন্ধকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগে সরব হয়েছেন পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস সদস্য রকিব আলী।কৈলাসহরের চণ্ডীপুর ব্লকের অধীন ১৩ আসন বিশিষ্ট ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতে ১১ জন বিজেপি সদস্যের পাশাপাশি কংগ্রেসের দুই সদস্য রয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে রকিব আলী ও শাহিদা বেগম কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।রকিব আলীর অভিযোগ, সম্প্রতি ২, ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রেগা প্রকল্পে সাত দিনের কাজ বরাদ্দ হয়েছে। সেই অনুযায়ী গত চারদিন ধরে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিকরা কাজে পৌঁছালে তাঁদের জানানো হয়, সেদিন কাজ বন্ধ থাকবে।বিষয়টি জানতে পঞ্চায়েত প্রধানকে ফোন করলে সফটওয়্যার সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ থাকার কথা জানানো হয় বলে দাবি রকিব আলীর। তবে তাঁর অভিযোগ, পরে দেখা যায় ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রেগার কাজ যথারীতি চলছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।রকিব আলীর আরও অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য আতাহুর রহমান ছয়জন রেগা শ্রমিকের স্বাক্ষর জাল করে এবং নিজের স্বাক্ষর-সহ মোট সাতজনের স্বাক্ষর দেখিয়ে পঞ্চায়েতে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২ নম্বর ওয়ার্ডে রেগার কাজ বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রকিব আলী জানান, যাঁদের মধ্যে পাঁচজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, তাঁরাই গত চারদিন ধরে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত রেগার কাজ করেছেন এবং শুক্রবারও কাজে এসেছিলেন। অপর একজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর; ওই ব্যক্তির ছনতৈল পঞ্চায়েত এলাকায় রেশন কার্ড বা জব কার্ড নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।কাজ বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে শ্রমিকরা পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও প্রধান, উপপ্রধান কিংবা পঞ্চায়েত সচিবের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে অভিযোগ। রকিব আলী জানিয়েছেন, রাতের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে শনিবার পঞ্চায়েত অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য তালাবন্ধ করে বিক্ষোভ দেখানো হবে।যদিও রকিব আলীর আনা অভিযোগের বিষয়ে ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান, উপপ্রধান ও পঞ্চায়েত সচিব শুক্রবার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে থাকায় দুপুর একটা পর্যন্ত পঞ্চায়েত অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানটি দিনভর চলার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *