ঊনকোটি জেলা ও দায়রা আদালতে ছুরিকাঘাতের মামলায় গ্রাম্য বিচারক হাছুকরাই দেববর্মাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ফটিকরায় থানা এলাকার।মামলার সরকারি আইনজীবী তথা ঊনকোটি জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর সুনির্মিল দেব জানান, ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে ফটিকরায় থানার অন্তর্গত শান্তির বাজারে রাতভর অর্কেস্ট্রা অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফিরছিলেন পবীর দেববর্মা ও ছানিয়া দেববর্মা। অভিযোগ, পথে তাঁদের আটকে মারধর করে রিপন দেববর্মা, খোকন দেববর্মা ও ভয়েল দেববর্মা।পরে আহতরা ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন। ওইদিন সকাল ১০টা নাগাদ শান্তির বাজারের বাজার শেডে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠক বসে। বৈঠকে অন্যান্য বিচারকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাছুকরাই দেববর্মা ও সুবেশ দেববর্মা।অভিযোগ, বৈঠক শেষ হওয়ার মুখে হাছুকরাই ও সুবেশের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে হাছুকরাই দেববর্মা সবার সামনে সুবেশ দেববর্মার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুবেশ। প্রথমে তাঁকে ফটিকরায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঊনকোটি জেলা হাসপাতাল হয়ে সংকটজনক অবস্থায় তাঁকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়।ঘটনার পরদিন, ৬ অক্টোবর সুবেশের ভাই রবি চাঁদ দেববর্মা ফটিকরায় থানায় হাছুকরাই দেববর্মা, ভয়েল দেববর্মা, খোকন দেববর্মা ও রিপন দেববর্মার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৪ আইপিসি ধারায় মামলা রুজু করে চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে।মামলার তদন্তকারী অফিসার বিপ্লব দেববর্মা ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে চলা মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।অবশেষে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ঊনকোটি জেলার জেলা ও দায়রা জজ প্রকাশ কুমার চার অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। মূল অভিযুক্ত হাছুকরাই দেববর্মাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাঁকে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে রিপন দেববর্মা, ভয়েল দেববর্মা ও খোকন দেববর্মাকে এক বছরের শর্তাধীন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
মীমাংসা বৈঠকেই ছুরিকাঘাত, গ্রাম্য বিচারকের ৫ বছরের কারাদণ্ড
