আকর্ষণীয় শিরোনাম:মৃত্যুর আগে WhatsApp-এ শেষ আর্তি— “ফিরে আয়, খুব একা লাগছে”: শান্তিনিকেতনের মনীষার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন তথ্যআগরতলা, ১২ জুনঃ ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গার্লস হোস্টেলের কেয়ারটেকার মনীষা দাসের অকাল মৃত্যুকে ঘিরে শোক ও রহস্যের আবহ আরও গভীর হয়েছে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং পরিচিত মহলে নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে সামনে এসেছে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে এক সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর WhatsApp চ্যাট ও কথোপকথনের তথ্য, যেখানে মানসিক অস্থিরতা ও গভীর একাকীত্বের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।গত বুধবার রাতে ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের নিজ কক্ষে আত্মহত্যা করেন মনীষা দাস। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে মেডিকেল কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।ঘটনার আগে এক সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর মেসেজ আদান-প্রদান এবং ফোনালাপের কিছু স্ক্রিনশট সামনে এসেছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে নয়, সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট হিসেবেই দেখা হচ্ছে।মনীষা দাসের সহকর্মী দীপা নামা জানান, “অনেকদিন পর সেদিন রাতে ওর সঙ্গে কথা হয়। WhatsApp-এ চ্যাটও করি। ও আমাকে বলে, ‘ফিরে আয়, খুব একা লাগছে।’ বাড়িতে কিছু সমস্যা চলছে বলেও জানায়। পরিবার-সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিল। আমি ওকে বুঝিয়েছিলাম যে সব ঠিক হয়ে যাবে, একটু সময় দিতে হবে। সেই সময় ওর বয়ফ্রেন্ড ফোন করলে সন্দেহের কারণে আমাকেও কনফারেন্স কলে যুক্ত করা হয়। আমি শুধু বলেছিলাম নিজেদের মধ্যে ঝামেলা না বাড়িয়ে শান্তভাবে মিটিয়ে নিতে।”তিনি আরও বলেন, “পরের দিন সকালেই মনীষার মৃত্যুর খবর পাই। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।”এদিকে, ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মেডিকেল কলেজের সভাপতি মলয় পীট বলেন, “মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা বিশ্বাস করি, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা কিংবা ব্যক্তিগত সংকট অনেক সময় নীরবে একজন মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া এবং মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আজ সময়ের দাবি।
মৃত্যুর আগে WhatsApp-এ শেষ আর্তি— “ফিরে আয়, খুব একা লাগছে”: শান্তিনিকেতনের মনীষার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন তথ্য
