আগরতলা, ২ জুলাই: স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুতের বাড়তি মাশুল, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি, জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান—একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালো বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার আগরতলায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগগুলি তুলে ধরেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য, আরএসপি নেতা দীপক দেব, ফরওয়ার্ড ব্লকের রঘুনাথ সরকার এবং সিপিআই(এম) নেতা রাজেন্দ্র রিয়াং।সাংবাদিক সম্মেলনে মানিক দে বলেন, জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। এতে চিকিৎসা পরিষেবা আরও ব্যাহত হবে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের উচিত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা এবং আপাতত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা।বিদ্যুতের বাড়তি ফিক্সড চার্জ ও স্মার্ট মিটার নিয়েও সরকারকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগমের ব্যর্থতার বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।ত্রিপুরা শান্তি নিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবি জানিয়ে মানিক দে বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা—সরকারের উচিত তা স্পষ্ট করা। পাশাপাশি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক কারবার, রামনগরের বিস্ফোরণ, দুর্নীতি, জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা, হকার উচ্ছেদ, সামাজিক ভাতা বকেয়া এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য অভিযোগ করেন, রাজ্যে শিক্ষার মান ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। বহু স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। পাশাপাশি গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকায় পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।আরএসপি নেতা দীপক দেব দাবি করেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। মাদক পাচার বেড়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং এসব সমস্যার মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজ্যে ‘আইনের শাসন নেই’, একের পর এক ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব বামফ্রন্ট
